হাতির আবাস রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন: পরিবেশমন্ত্রী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকারের একার পক্ষে যথেষ্ট নয়, এর জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, হাতির আবাসস্থল রক্ষা করা মানে শুধু একটি প্রজাতিকে বাঁচানো নয়, বরং এর মাধ্যমে আমাদের বন, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং উপজেও মানুষের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হয়। গত বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব হাতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ বছরের দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি’।
মন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একসময় দেশে প্রচুর হাতি থাকলেও বর্তমানে আবাসস্থল দখল, বন উজাড় ও অবৈধ শিকারের কারণে তাদের সংখ্যা কমছে। ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে স্থায়ী বন্য হাতি ২৬৮টি, পরিযায়ী ৯৩টি এবং পোষা হাতি ৯৬টি। হাতির বর্তমান অবস্থা জানতে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে এ পর্যন্ত ১৫৯টি এলিফেন্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করা হয়েছে, যারা হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও সতর্কবার্তা দিয়ে সংঘাত রোধে কাজ করছে।
সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সরকার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালের বিধিমালা অনুযায়ী নিহতের পরিবারকে ৩ লাখ, আহতকে ১ লাখ এবং ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতির জন্য ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হচ্ছে। ২০১২ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নিহত ৩২২ জনের পরিবার, ১৬৯ জন আহত এবং ফসল ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ৩ হাজার ২১৫টি পরিবারকে মোট ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল তার আসনের হাতি আক্রমণ ও ক্ষতিপূরণ বিষয়ক তথ্য তুলে ধরেন।

