সচিবালয়ে কড়াকড়ি: প্রবেশ, পার্কিং ও দর্শনার্থী পাসে নতুন ৯ নিয়ম
সরকারি প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করছে সরকার। প্রবেশাধিকার, যানবাহন চলাচল, দর্শনার্থী পাস ইস্যু এবং ভবনের সুরক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এজন্য ৯ দফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৪ অক্টোবর সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এতে সংশ্লিষ্ট সচিবদের পাশাপাশি পুলিশ মহাপরিদর্শকও ছিলেন। সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, সচিবালয় চত্বরে গাড়ির প্রবেশ, অবস্থান ও পার্কিং বিধি ঠিকভাবে পালন হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত নজরে রাখবে কর্তব্যরত পুলিশ। যানবাহনের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিশেষ পার্কিং স্টিকার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। অনুমোদিত স্টিকার ছাড়া কোনো গাড়িকে সচিবালয় প্রাঙ্গণে পার্ক করতে দেওয়া হবে না। দর্শনার্থীদের কার্যক্রমও কড়া তদারকিতে থাকবে।
দর্শনার্থী পাসে সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপ-মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা সর্বোচ্চ ১০টি পাস দিতে পারবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্যসচিব, অন্যান্য সিনিয়র সচিব ও সচিবদের জন্য সেই সীমা পাঁচটি, অতিরিক্ত সচিবদের তিনটি এবং যুগ্মসচিবদের দুটি। পাশাপাশি দুপুর ১২টার আগে কোনো দর্শনার্থী সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। বিদেশি অতিথিদের জন্য থাকবে আলাদা নিবন্ধন ব্যবস্থা, যেখানে তাদের পরিচয়, আসার উদ্দেশ্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং প্রবেশ-বহির্গমনের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।
১ নম্বর ভবনসহ সব ভবনে পৃথক অ্যাকসেস কন্ট্রোল সিস্টেম স্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে। রাতে সচিবালয়ে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অননুমোদিত ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন না; জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমোদন নিতে হবে। বদলির আদেশ কার্যকর হওয়ার সাতদিন পর সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর স্থায়ী পাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। সংসদ সদস্যরা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করলে সঙ্গে নিতে পারবেন শুধু নিজের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও গাড়িচালককে; তাদের পরিচয় যাচাই করেই ঢোকানো হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন ব্যবস্থাপনা ও দর্শনার্থীদের নজরদারি জোরদার করাই এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হবে বলে আশা করছে সরকার।

