শতাধিক গুম-খুনের মামলায় জিয়াউল আহসান: চলছে ১৪তম সাক্ষীর জেরা
আওয়ামী আমলে শতাধিক মানুষকে গুম করে হত্যার অভিযোগে গঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিচারে রাষ্ট্রপক্ষের ১৪তম সাক্ষী কামরুল ইসলামকে জেরা করা হচ্ছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আসামিপক্ষের আইনজীবী সাহিদুর রহমান এই জব্দ তালিকার সাক্ষীকে প্রশ্ন করছেন। এদিকে প্রসিকিউশন আশা করছে, আগামী অক্টোবরের মধ্যেই মামলাটির বিচারকাজ সম্পন্ন হবে।
জেরা চলাকালে ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, তাসমিরুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম সরদার, মঈনুল করিম ও মামুনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর কামরুল ইসলাম সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। সেদিন তদন্তের সময় বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা আলামত ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন তিনি। ওই দিনই মামলার ১৩তম সাক্ষী, র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরা শেষ হয়। প্রসিকিউশনের বক্তব্য, সাব্বির রহমানই এই মামলার সর্বশেষ চাক্ষুষ সাক্ষী। নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণের দিন সকালে কারাগার থেকে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এই মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। প্রথম অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের ধারে তার সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, আলকাছ মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার কথা উঠে এসেছে।
তৃতীয় অভিযোগেও একই সময়কালে তথাকথিত ‘বনদস্যু দমন’ অভিযানের আড়ালে মাসুদসহ আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডগুলো বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন জায়গায় সংঘটিত হয়। উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করে এবং একই দিন তিনটি অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল-১। পরের দিন ২৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

