জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্রে চাঙা বিক্রি, এক মাসে নিট ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

প্রাইম বার্তা অনলাইন
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২:৩০ এএম
জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্রে চাঙা বিক্রি, এক মাসে নিট ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

নতুন অর্থবছর শুরুর প্রথম মাসেই জাতীয় সঞ্চয়পত্রের বিক্রিতে দেখা দিয়েছে উজ্জ্বল স্ফূর্তি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রির প্রাপ্তি থেকে আগের পত্রগুলোর আসল ও মুনাফা ধার্য করার পর সরকারের হাতে নিট উঠেছে ২ হাজার ৫৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। অথচ ঠিক এক মাস আগে গত অর্থবছরের সমাপনী মাস জুনে ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ উল্টো—নতুন বিক্রির চেয়ে পরিশোধ বেশি হয়েছিল ৩৬৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, অর্থাৎ নিট বিক্রি ঋণাত্মক ছিল।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো বারো মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি হয়েছিল মাত্র ৪৩৬ কোটি টাকা, যার প্রায় পাঁচগুণ এসেছে জুলাই মাসেই। এই ঘটা প্রবণতার পেছনে কয়েকটি ব্যাংকের অস্বচ্ছলতা এবং আমানত ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে সৃষ্ট অনিশ্চয়তাকে দায়ী করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। আমানতের সুদহার বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু সব ব্যাংকের প্রতি আস্থা এখনো সম্পূর্ণ ফেরেনি। শেয়ারবাজারেও বিনিয়োগের পরিবেশ তেমন অনুকূল নয়—ফলে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে অনেকে ঝুঁকছেন সঞ্চয়পত্রের দিকে। এর সঙ্গে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তও বিক্রি ধরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা নিচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। বর্তমানে বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার রয়েছে ১১ দশমিক ৮২ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশের মধ্যে।

সঞ্চয় অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, গত ৩১ জুলাই শেষে সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে সরকারের দেনা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬১ কোটি ৮২ লাখ টাকা; জুন শেষে যেখানে এই স্থিতি ছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। উল্লেখ্য, গত অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্য ঠিক করা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। পুরো অর্থবছরে মোট ৯২ হাজার ৬১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকার পত্র বিক্রি হলেও আগের পত্রগুলোর আসল ও মুনাফা বাবদ সরকারকে পরিশোধ করতে হয়েছে ৯২ হাজার ৭৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা; এর মধ্যে কেবল মুনাফাই ছিল ৪৭ হাজার ৫১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাত থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আরও কমিয়ে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে টানা দুই অর্থবছর সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের কোনো নিট ঋণ জোগাড়ই হয়নি—২০২৪-২৫ অর্থবছরে পরিশোধ ছিল বিক্রির চেয়ে ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা বেশি, আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২১ হাজার ১২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বেশি। ফলে জুলাইয়ের এই ইতিবাচক ধারা বছরের বাকি মাসগুলোতে অব্যাহত থাকে কি না, তা নির্ভর করবে ব্যাংকখাতের ওপর গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার ও মুনাফার হার নীতির ওপর।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...