সুইমিংপুলে গভীর পানিতে ডুবে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী প্রিয়মের মৃত্যু
সিলেট নগরীর চৌকিদেখি এলাকার বৃটানিকা সুইমিংপুলে সাঁতার কাটার সময় ৯ ফুট গভীর পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থী। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দীপাঞ্জন ঘোষ প্রিয়ম (২০) বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন।
প্রিয়ম সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রতনকান্দি গ্রামের কৃষ্ণ দুলাল ঘোষ ও চম্পা ঘোষ দম্পতির ছেলে। পরিবারের সদস্যরা ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাস করেন, আর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সুরমা আবাসিক এলাকার একটি মেসে থাকতেন। সহপাঠী ফায়াজ নবী জানান, তিন বন্ধু নিয়মিত ওই পুলে সাঁতার কাটতে যেতেন। বুধবার বিকেল ৫টার দিকে সাঁতার শুরুর পর প্রিয়ম দু-একবার ৯ ফুট গভীর অংশে গিয়ে ফিরেও আসেন। তবে পরে তিনি আবার কখন সেখানে চলে যান, তা কেউ খেয়াল করতে পারেননি।
বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে পুলের কর্মীরা তাকে গভীর পানি থেকে উদ্ধার করেন। পুলের ইনস্ট্রাক্টর আমিরুল ইসলাম আবু বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সাঁতার অনভিজ্ঞদের ৬ ফুটের বেশি গভীর পানিতে নামতে দেওয়া হয় না। এক কর্মী প্রিয়মকে পানির নিচে চিত হয়ে ভাসতে দেখে খবর দেন। উদ্ধারের পর ঝাঁকুনি দিলে তিনি বমি করেন এবং দুর্বলভাবে শ্বাস নিচ্ছিলেন। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তাকে দরগাহ গেটসংলগ্ন নূরজাহান হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মোখলেছুর রহমান জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। প্রিয়মের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে; তারা এলে ময়নাতদন্ত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত মরদেহ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হবে। পুল কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা বা তদারকির ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে—গাফিলতি প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। সিলেট বিমানবন্দর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (পরিদর্শক) আব্দুস সালাম বলেন, ওই সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী। ডুবন্ত অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

