সাত মাস পর ফেরা রায়হানের ডান পা নেই, অভিযোগ ভিক্ষা চক্রের নির্যাতন
সাত মাস ধরে নিখোঁজ থাকার পর বাড়ি ফিরেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার ১২ বছরের কিশোর মোহাম্মদ রায়হান। তবে তার প্রত্যাবর্তন শুধু পরিবারের জন্য স্বস্তি নয়, নিয়ে এসেছে ভয়ংকর এক বাস্তবতা। কিশোরটির ডান পা নেই, শরীরের নানা জায়গায় ক্ষত, পেটে ও মাথায় রয়েছে কাটা দাগ। পরিবারের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি চক্র তাকে রাজধানীর কমলাপুরে আটকে রেখে ভিক্ষাবৃত্তিতে যুক্ত করেছিল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি চুল কাটার জন্য বাবা নাজিম উদ্দীন ছেলেকে ১০০ টাকা দিলে অভিমানী হয়ে রায়হান ঘর ছাড়ে। পরে একটি নির্বাচনি প্রচারণার ট্রাকে চেপে সে পৌঁছে যায় কক্সবাজারে। প্রায় দুই মাস সেখানে সৈকত এলাকায় অবস্থান করে পর্যটকদের কাছ থেকে টাকা চেয়ে খাবার জোগাড় করত এবং রাত কাটাত সেখানেই। এরপর বেশি আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তি তাকে বাসে করে ঢাকায় নিয়ে যায়।
ঢাকায় কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় রায়হানকে দিয়ে পানি ও শরবত বিক্রি করানো হতো বলে জানা যায়। তার বর্ণনায়, একপর্যায়ে সংগঠিত চক্রের হাতে পড়ে সে ভিক্ষার জন্য ব্যবহৃত হতে থাকে। পানি বিক্রির আয় কম হওয়ায় ভিক্ষা করানোর লোভনীয় মাধ্যম বানাতে চক্রটি তার ডান পা কেটে ফেলে বলে পরিবারের অভিযোগ।
নিখোঁজের সাত মাস পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি এলাকায় ঐতিহ্যবাহী সিরাত মাহফিলের পাশে এক পায়ে ভর দিয়ে ভিক্ষা চাইতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দিনমজুর বাবা নাজিম উদ্দীন ছেলেকে শনাক্ত করেন। সাতগড় নোয়াপাড়া এলাকার এই কিশোর স্থানীয় একটি তাহফিজুর কোরান হিফজখানার ছাত্র ছিল। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক সাড়া পড়ে, যদিও ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে রায়হান একেক সময়ে একেক তথ্য বলেছে। শিশু নিখোঁজ ও ভিক্ষা চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রায়হানের মতো ট্র্যাজেডি ভবিষ্যতেও রোধ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন অনেকে।

