ফেসবুকে ‘বিদ্যুৎ বিল কমানোর’ চমক: নেই কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৪৩ এএম
ফেসবুকে ‘বিদ্যুৎ বিল কমানোর’ চমক: নেই কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি

‘স্মার্ট উপায়ে বিদ্যুৎ বিল কমান’, ‘বিদ্যুৎ খরচ কমবে ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ’, ‘যে কোনো সকেটে লাগালেই সাশ্রয়’—এমনই চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার চোখে পড়ছে। ইদানীং কম্পিউটার কিংবা মোবাইলে মাউস স্ক্রল করলেই বাংলা ও ইংরেজিতে এমন প্রলুব্ধকর বিজ্ঞাপনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা ছড়াচ্ছে এক শ্রেণির প্রতারক ব্যবসায়ী চক্র।

প্রেক্ষাপটে রয়েছে সরকারিভাবে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ইউনিটপ্রতি বিভিন্ন স্ল্যাবের কারণে বিল অতিরিক্ত আসার অভিযোগ। গত কয়েক মাস ধরে তুলনামূলক বেশি বিলের কারণে চিন্তিত সাধারণ গ্রাহকরা না বুঝেই প্রতারকদের এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন। রাজধানীর দক্ষিণখানের বাসিন্দা নুরুল আলম জানান, ইলেকট্রনিক সামগ্রী সম্পর্কে তার ভালো ধারণা থাকায় এসব চমকের আসল রূপ বুঝতে পারেন, তবে তার পরিচিত অনেকেই ফেসবুকে দেখা এসব বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হয়েছেন। গত দুই-তিন দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করে দেখা গেছে, হরেক নামে অনলাইন পেজ ও শপ নিয়মিত এসব ডিভাইসের বিজ্ঞাপন দিচ্ছে।

তবে বিদ্যুৎ প্রকৌশল ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা এবং আন্তর্জাতিকভাবে একই ধরনের ডিভাইস নিয়ে পরিচালিত নানা পরীক্ষার তথ্য বলছে, সাধারণ আবাসিক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার এমন দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এই ধরনের ‘পাওয়ার সেভার’ ডিভাইস নিয়ে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে।

গ্রাহকদের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিল সাশ্রয়ের নামে আকর্ষণীয় প্রস্তাবে কান না দিয়ে আগে যাচাই করা জরুরি। অজানা অনলাইন পেজ থেকে এসব ডিভাইস কিনতে গিয়ে অর্থ ও বিশ্বাস—দুটোই হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...