প্রি-পেইড মিটার বাতিল করে ডিজিটাল মিটারে ফেরার দাবি গ্রাহক কমিটির
বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার প্রকল্প বাতিল করে আগের ডিজিটাল মিটার পুনরায় স্থাপনের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটি’। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ ভবন প্রাঙ্গণে ‘মিট দ্য প্রেস’ কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনটি চার দফা দাবি জানায়। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের মূল্য হ্রাস, আন্দোলনরত গ্রাহকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং বিদ্যুৎখাতের গত ১৫ বছরের অনিয়ম ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ। পাশাপাশি বিদ্যুৎখাত ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের তৎপরতা বন্ধ, চলমান সংকটের জনবান্ধব সমাধান এবং গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা হিসেবে সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল অভিযোগ করেন, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে বর্তমান সরকার বিদ্যুতের দাম ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর ওপরেও স্ল্যাব ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে গ্রাহকদের কাছে তিন থেকে চারগুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত বিল আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, সাবেক সরকারের আমলে বিদ্যুৎখাত দুর্নীতি ও লুটপাটের অন্যতম ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। ওই সময়ের ৩১টি প্রকল্প বাতিল করা হলেও গ্রাহকের ভোগান্তির কারণ এই প্রি-পেইড মিটার প্রকল্প এখনো ঝুলে আছে; বরং বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে তৎপর হয়ে উঠেছে।
প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের ফলে গ্রাহকদের মিটার চার্জ, ডিমান্ড চার্জ, সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাটসহ নানা অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মিটার নষ্ট হওয়া, ব্যাটারি শেষ, সার্ভার ডাউন, কারিগরি ত্রুটি কিংবা রিচার্জ ফুরিয়ে যাওয়া—এসব কারণে ভোক্তারা নিয়মিত হয়রানি ও ভোগান্তিতে পড়ছেন।
আর্থিক হিসাব তুলে ধরে মাহবুবুর রহমান ইসমাইল জানান, দেশে প্রায় পাঁচ কোটি বিদ্যুৎ গ্রাহকের চালু ডিজিটাল মিটার পরিবর্তনে গড়ে মিটারপ্রতি তিন হাজার টাকা ধরলে ব্যয় হবে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। প্রি-পেইড মিটার প্রকল্পে ইতিমধ্যে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়টি যুক্ত করলে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থ মিটার বদলে খরচ না করে তা বিদ্যুৎ সংকট নিরসন ও খাতটির উন্নয়নে ব্যবহারের দাবি জানান তিনি।

