প্রক্সি দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষা, যোগদানের দিনেই ধরা পড়ল ভূমি মন্ত্রণালয়ে
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ধরা পড়েছে। প্রকৃত প্রার্থী মো. মাইদুল ইসলামের বদলে অন্য একজন পরীক্ষা দিয়ে সেই ফলের ভিত্তিতেই চাকরিতে যোগদান করছিলেন। যোগদানের পর পরিচয় যাচাইয়ে অসঙ্গতি পাওয়ায় অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সাতটি ক্যাটাগরিতে ৩৭টি পদে সরাসরি জনবল নিতে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক—তিন ধাপের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। গত ১৩ আগস্ট উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়। এরপর ১ অক্টোবর মোট ৩৪ জন প্রার্থী সিনিয়র সচিব বরাবর যোগদানপত্র জমা দেন। সেসময় মৌখিক পরীক্ষার দিন সংগ্রহ করা ছবি ও বিভিন্ন তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছিল।
রোববার (৪ অক্টোবর) আবারও ছবি ও পরিচয় মিলিয়ে দেখতে গিয়ে রোল নম্বর ১৭০০২৭০৭ ধারী মাইদুল ইসলামের ক্ষেত্রে গুরুতর অমিল চোখে পড়ে। মৌখিক পরীক্ষার সময় ধারণ করা ছবির সঙ্গে উপস্থিত ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল পাওয়া যায়নি। একই দিনে যোগদান করা অন্য ৩৩ জনের সামনে তাকে দাঁড় করানো হলে কেউই তাকে মাইদুল হিসেবে শনাক্ত করতে পারেননি; বরং তিনিও মাইদুল বা একই ব্যাচের অন্য কাউকে চিনতে পারেননি। মৌখিক পরীক্ষার হাতের লেখার নমুনায়ও পাওয়া যায় অসঙ্গতি। সব প্রমাণ-উপাত্ত বিশ্লেষণে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে—পরীক্ষা ও যোগদান দুটিই করেছেন ভিন্ন ব্যক্তি।
লালমনিরহাটের কালিগঞ্জের তেতুলিয়া গ্রামের মাইদুলের বাবার নাম মো. আব্দুল হাই ও মা মোসলেহা বেগম। উপরিদর্শক মো. আবুল কালামের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিকে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে আইনগত ব্যবস্থার জন্য। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি, প্রতারণা কিংবা পরিচয় গোপনের ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। নিয়োগের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষায় ভবিষ্যতেও কঠোর যাচাই-বাছাই ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

