সিপিডি প্রতিবেদন: স্থানীয় সরকারে ই-গভর্নেন্সে বাড়ছে ম্যানুয়াল নির্ভরতা
দেশের স্থানীয় সরকার পর্যায়ে ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের নামে চলছে চরম ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সেন্ট্রাল ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেবার আড়ালে আসলে চলছে হাতে-লেখা কাগজপত্রের প্রচলিত পদ্ধতি। এতে নাগরিক সেবা নিতে এসে মানুষকে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে ‘এস্টাবলিশিং ইফেক্টিভ অ্যান্ড অ্যাকাউন্টাবল ই-গভর্নেন্স’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অনলাইনে আবেদন করার পরও সেবাগ্রহীতাদের বারবার অফিসের দ্বার স্পর্শ করতে হচ্ছে। ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি এবং দীর্ঘসময় ধরে চলা ম্যানুয়াল যাচাই-বাছাইয়ের কারণে সেবা প্রাপ্তির সুফল ভোগ করতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন অনুষ্ঠানে মতামত দিতে গিয়ে বলেন, প্রকৃত ডিজিটালাইজেশন হলো যেখানে নাগরিকরা দ্রুত সেবা পাবেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারবেন এবং প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারবেন। বর্তমানে সেবার জন্য বারবার অফিসে যাওয়ার ফলে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতির ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে।
এই আয়োজনে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাস্পায়ার টু ইনোভেটের সিনিয়র কনসালটেন্ট ফজলুল জাহেদ পাভেল, আইসোশ্যালের চেয়ারপারস ড. অনন্যা রায়হান ও এমআইএস বিশেষজ্ঞ আমিনুল মহাইমেন। ফাহমিদা খাতুন আরও জানান, তরুণদের চাহিদা ও দক্ষতা উন্নয়নে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগাতে হবে। স্থানীয় সরকারের বাজেট প্রণয়ন ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় তরুণদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করলে সুশাসন আরও জোরদার হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

