আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার ও ঘুসবাণিজ্যের অভিযোগ

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬:২৭ পিএম
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার ও ঘুসবাণিজ্যের অভিযোগ

অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপদেষ্টা থাকাকালীন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন এবং বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ দাঁড়িয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তানজির আহমেদ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদোন্নতির বিনিময়ে অর্থের আদান-প্রদানের অভিযোগও কমিশনের কাছে এসেছে। নতুন উঠে আসা এসব অভিযোগ চলমান তদন্তের সঙ্গে যুক্ত করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর এই মন্ত্রণালয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের জন্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি সারা দেশে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নের ক্ষেত্রে জনপ্রতি ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত আদান-প্রদানের কথা বলা হয়েছে অভিযোগে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে কমিশন আদায় এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে টেন্ডারবাজির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে। এমনকি নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে সাবেক এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে।

এর বাইরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎের কথা বলা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয়বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচের বিষয়েও। নতুন অভিযোগগুলো যাচাই শেষে অনুসন্ধানের পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা হতে পারে বলে ধারণা করছে দুদক সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...