সংসদে ফিরেই আবেগে ভেঙে পড়লেন মির্জা আব্বাস, শ্রদ্ধা জানালেন জিয়া-খালেদাকে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রথম অংশ নিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। সংসদ শুরুর প্রায় পাঁচ মাস পর বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে তিনি অধিবেশনে উপস্থিত হন। এরপর পৌনে ৬টার দিকে শপথের পর প্রথমবারের মতো সংসদে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্যের সময় সংসদ কার্যক্রম ছিল স্তব্ধ।
বক্তব্যে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, কাজ করার জন্যই সংসদে ফিরে এসেছেন এবং মানুষের সেবা করতে চান। দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন, বিদেশেও চিকিৎসা চলছে। ভালোবাসা ও আবেগের টানেই তাকে সংসদে আসতে হয়েছে বলে জানান তিনি। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে।
আজকের দিনটিকে তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আবেগঘন দিন হিসেবে চিহ্নিত করে মির্জা আব্বাস জানান, ২০০৬ সালের পর এই প্রথম জাতীয় সংসদে কথা বলার সুযোগ পেলেন। নতুন সংসদ শুরুর পরপরই স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় যেতে হয়েছিল। চিকিৎসার মাঝপথেই তিনি সংসদে উপস্থিত হন। এসময় তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী তার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং স্পিকার তাকে দেখতে গিয়েছিলেন, যা তার কাছে মানবিক আচরণ মনে হয়েছে।
উল্লেখ্য, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় মির্জা আব্বাস হুইল চেয়ারে বসেছিলেন। তিনি বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমানউল্লাহ আমানের আসনের মাইক্রোফোন ব্যবহার করে কথা বলেন। লিখিত বক্তব্য পড়তেও তার পাশে ছিলেন আমানউল্লাহ আমান। নেতার এমন অবস্থা দেখে সংসদে উপস্থিত অন্য সংসদ সদস্যরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

