মেহেরপুর-১ ও ২ আসনের নির্বাচনী ফলাফল রাজনৈতিক ভূমিকম্প সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই আসনগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করা বিএনপি প্রার্থী মাসুদ অরুণ প্রত্যাশিতভাবেই হেরেছেন, কিন্তু ব্যবধানটি ছিল লজ্জাজনক। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা তাজউদ্দিন খান বিজয়ী হয়েছেন বিপুল ভোটের ব্যবধানে। এই ফলাফল কেবল দলীয় ভোট ব্যাংকের পরিবর্তন নয়, বরং এখানকার সামাজিক ও রাজনৈতিক সমীকরণের বড় একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
ভোটের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে আসে। ২০০১ সালে বিএনপির মাসুদ অরুণ প্রায় এক লাখ দুই হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হলেও, এবার তিনি পেয়েছেন এক লাখ চার হাজার ৭৮৭ ভোট। অপরদিকে, ২০০৮ সালে মাত্র ৩৪ হাজার ভোট পাওয়া জামায়াত প্রার্থী এবার পেয়েছেন এক লাখ ২১ হাজার ৪৬১ ভোট। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এই বিপুল ভোট বৃদ্ধির পেছনে নতুন ভোটার, বিশেষ করে নারী ভোটারদের ব্যাপক সাড়া এবং দীর্ঘদিনের নীরব ভোটারদের কেন্দ্রে আসা মূল ভূমিকা রেখেছে। আগস্ট ২০২৪-এর পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগে বিএনপির একাংশ নেতাকর্মীর হাট-বাজার ও স্থানীয় সম্পদ দখল এবং মামলার ভয় দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায় করা ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়, যার প্রতিফলন ঘটেছে ব্যালট বাক্সে।
বিএনপির এই পরাজয়ের পেছনে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। জেলা কমিটি গঠনের সময় সাবেক এমপি মাসুদ অরুণকে গুরুত্ব না দেওয়ায় দলে ভাঙন ধরে। নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান ও মাসুদ অরুণ গ্রুপের মধ্যে বিরোধীতা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে নির্বাচনের আগে একটি ভাইরাল অডিওতে কামরুল ইসলামকে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাইতে শোনা যায়। অপরদিকে, জামায়াত বড় শো-ডাউন এড়িয়ে ওয়ার্ড ভিত্তিক সংগঠন গোছানো, মসজিদকেন্দ্রিক যোগাযোগ এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষকদের মতে, বিএনপি যখন ক্ষমতার দম্ভ নিয়ে ব্যস্ত ছিল, জামায়াত তখন ঘরে ঘরে গিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছে, যার সুফল তারা এই নির্বাচনে পেয়েছে।
সম্পাদক: রাশিদা খাতুন
লালমাটিয়া হাউজিং স্টেট, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা–১২০৭, বাংলাদেশ।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © ২০২৬ প্রাইম বার্তা