কপ-৩১ সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নের পাশাপাশি পাটের সম্ভাবনা তুলবে বাংলাদেশ
তুরস্কের আনতালিয়ায় আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১। এই সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নের ন্যায্য দাবির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব তন্তু পাটের বিশ্ববাজারে সম্ভাবনা নিয়েও সরব থাকতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক, তরুণ প্রতিনিধি ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আলোচনায় উঠে আসে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রোধ, অভিযোজন ও সহনশীলতা বৃদ্ধি, জলবায়ু ন্যায়বিচার, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার তহবিল, ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর এবং সবুজ প্রবৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে কপ সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক মঞ্চ। বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে পর্যাপ্ত, অনুমেয় ও স্বচ্ছ অর্থায়ন নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। তিনি বৃত্তাকার অর্থনীতি ও পরিবেশবান্ধব শিল্পের বিকাশে প্রাকৃতিক ও পচনশীল তন্তু পাটের বিশেষ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন এবং জানান, সম্মেলনে পাটজাত পণ্য, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সম্মেলনের বিভিন্ন আলোচ্যসূচি নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত ব্যক্ত করেন, তরুণ প্রতিনিধিরাও জানান তাদের প্রস্তাব ও প্রত্যাশা। সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সমন্বিত ও বাস্তবায়নযোগ্য কৌশল গ্রহণের ওপর জোর দেন আলোচকেরা। এদিকে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যবহার সম্প্রসারণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সম্মেলনে একটি বিশেষ প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনসহ বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল।

