নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে আওয়ামী নেতাকর্মীদের তোপে ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হেনস্তার মুখে পড়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৮-এ হুইলচেয়ারে থাকা অবস্থায় তাকে ঘিরে আক্রমণাত্মক স্লোগান দেওয়া হয় এবং নানা অভিযোগ তোলা হয়। এ সময় তাকে ঘিরে উত্তেজনাও দেখা দেয়।
কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কে পৌঁছান ড. ইউনূস। নির্ধারিত সময় দুপুর ৩টা ১০ মিনিটে ফ্লাইটটি অবতরণের কথা থাকলেও ৪৫ মিনিট দেরিতে অর্থাৎ ৩টা ২৫ মিনিটে অবতরণ করে। পরে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি টার্মিনাল ৮-এ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে হুইলচেয়ারে বসা ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে কয়েকজনের উচ্চস্বরে চিৎকার করার দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় ‘ইউ আর আ টেররিস্ট’ (আপনি একজন সন্ত্রাসী) এবং ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ (আপনি এখানে কেন এসেছেন) — এমন কথাও শোনা যায়।
জ্যাকসন হাইটস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর কায়সার জানান, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজান চৌধুরী, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল ও যুবলীগ নেতা সাগরসহ অন্যরা। তার ভাষায়, ড. ইউনূসের নিউইয়র্কে আসার খবর আগেই তাদের জানা ছিল; তাকে প্রশ্নের মুখোমুখি করতে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন। আনুষ্ঠানিক সমাবেশ না করার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলো ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন, সেখানে সভা করতে লিখিত অনুমতি প্রয়োজন। কর্মসূচি হঠাৎ হওয়ায় তারা সরাসরি উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ করেন। সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে নিশ্চিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার থেকেই এ কাজ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তানভীর কায়সারের অভিযোগ, ড. ইউনূসের কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং দেশ নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে। দেশের নাগরিক হিসেবে দায়বদ্ধতা থেকেই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলে তার দাবি। বিক্ষোভের সময় ড. ইউনূস কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি জানিয়ে তিনি বলেন, তার সঙ্গে থাকা লামিয়া মোর্শেদও কোনো কথা বলেননি। ড. ইউনূসের অসুস্থতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই নেতা। তার দাবি, অসুস্থতার কারণে জার্মানি সফরে যেতে না পারার কথা বলা হলেও ড. ইউনূস দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভবিষ্যতে ড. ইউনূস যেখানেই উপস্থিত থাকবেন, সেখানেই যুক্তরাষ্ট্রের আইনের মধ্যে থেকে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তানভীর কায়সার। অন্যদিকে এ ঘটনায় ড. ইউনূস কিংবা তার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

