শিশুর অধিকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আন্তরিক সরকার: মন্ত্রী
নির্বাচনি ইশতেহারে শিশুর অধিকার নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে ‘শিশু অধিকার দিবস ২০২৬’ এবং প্রতিষ্ঠানটির সুবর্ণজয়ন্তীর (৫০ বছর পূর্তি) সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুর অধিকার বিষয়ে ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকারগুলো বাস্তবে রূপ দিতে অবিচলভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন।’ তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ শিশুবান্ধব। বিভিন্ন কর্মসূচিতে শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সময় তাদের মতামত ও অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নারী ও শিশুর সার্বিক নিরাপত্তায় সবাই একযোগে কাজ করলে দেশের অগ্রযাত্রা আরও দ্রুত হবে বলে মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই চালু হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি, যাতে ইতিমধ্যে ১ লাখ ৪৫ হাজার শিশু বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিয়েছে। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, সন্তানদের কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে গেঁথে না রেখে খেলাধুলা, সঙ্গীত, কবিতা আবৃত্তিসহ নানা সৃজনশীল কাজে উদ্বুদ্ধ করতে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিশুদের হাতে এসময় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পরে অতিথিরা শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন। উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সস্ত্রীক তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন; বৃহস্পতিবার ছিল তার সমাপনী দিন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম এবং ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম। এসময় একাডেমির বোর্ড সদস্য, মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিশু অধিকারবিষয়ক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন জেলার শিশু একাডেমির শিশুরাও উপস্থিত ছিলেন। শিশুদের সার্বিক বিকাশে এমন কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

