গুম-হত্যা ঢাকতে মিথ্যা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন করতে বাধ্য করা হতো: তদন্ত কর্মকর্তা

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৮ অক্টোবর ২০২৬ ৯:৫৪ পিএম
গুম-হত্যা ঢাকতে মিথ্যা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন করতে বাধ্য করা হতো: তদন্ত কর্মকর্তা

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে এলে তা আইনি আড়ালে ঢাকতে কূটকৌশলে প্রশাসনিক তদন্তের মঞ্চনাটক আয়োজন করা হতো বলে অভিযোগ করেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ার সময় তিনি এ তথ্য জানান। তার জবানবন্দির অবশিষ্ট অংশ আগামী রোববার (১১ অক্টোবর) গ্রহণ করা হবে।

তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ গোপন রেখে কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে মিথ্যা ও ভুল ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং পুলিশ প্রতিবেদন তৈরি করানো হতো। এর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল আসল হত্যাকারীদের সুরক্ষা দেওয়া এবং তাদের অদৃশ্য থাকা নিশ্চিত করা। এছাড়া মামলার তদন্ত পদ্ধতি, কাদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে এবং কোন কোন স্থান পরিদর্শন করে কী তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণও তিনি ট্রাইব্যুনালে পেশ করেন।

শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশনের ১৫তম ও শেষ সাক্ষী হিসেবে এই তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি শুরু হয়। এ মামলায় তৎকালীন সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াসহ সেনাবাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের সাক্ষ্যে জিয়াউল আহসান কীভাবে একজন ‘সিরিয়াল কিলার’-এ পরিণত হন এবং র্যাব কর্মকর্তারা কীভাবে ধাপে ধাপে এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, সে বিবরণ উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

মামলার নথি অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত গুম ও হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ১৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করে। এর মধ্য দিয়ে ১০৪ জনকে হত্যার মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার নির্দেশ ও অনুমোদনে র্যাব সদস্যরা বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা চালান। এছাড়া প্রয়োজনীয় কোর্স, প্রশিক্ষণ কিংবা ব্যাটালিয়ন-ব্রিগেড কমান্ডের অভিজ্ঞতা ছাড়াই তিনি মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি পান, যা সেনাবাহিনীর পেশাদার ইতিহাসে নজিরবিহীন।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...