ক্যাম্পাসের অরাজনৈতিক সংগঠন গুপ্ত রাজনীতির আখড়া, অভিযোগ ছাত্রদল সভাপতির
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক সাংবাদিক সমিতি, ডিবেটিং সোসাইটিসহ নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনকে গুপ্ত রাজনীতির ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। সোমবার (৫ অক্টোবর) গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এই অভিযোগ করে দাবি জানান, অরাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে গুপ্ত রাজনীতিমুক্ত করতে হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গতকাল সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে ছাত্রদল সভাপতি লেখেন, তার দল কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনার নেপথ্যে থাকা শিবিরের নেতাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, তা পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও জানান তিনি।
তার ভাষ্যমতে, প্রকাশ্য রাজনীতিতে দলীয় পদধারীদের সংগঠনে ঢোকায় লিখিত নিষেধাজ্ঞা থাকার সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে গুপ্ত সংগঠনের মুনাফেক নেতাকর্মীরা। এসব সংগঠনের কমিটি গঠন, আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা ও লেনদেনে চরম অস্বচ্ছতা রয়েছে। অতীতে ক্যাম্পাস সংগঠনের শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তিরা পরবর্তীতে কোন দলের পারপাস সার্ভ করেছে, তা বিশ্লেষণ করলেই তার দাবির সত্যতা মিলবে বলেও দাবি করেন তিনি। সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুপ্ত রাজনীতির আঁতুরঘর বানাতে দেওয়া হবে না এবং অচিরেই গুপ্তদের মুখোশ উন্মোচিত হবে বলে সংকেত দেন তিনি।
মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং প্রকাশ্য রাজনীতির সঙ্গে যুক্তদের ক্যাম্পাসের সব সংগঠনে অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে রাকিব লেখেন, যারা গুপ্ত মুনাফেকদের জাকাতের টাকায় জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে শিবিরের ঢাল হিসেবে ছাত্রদলকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় প্ররোচিত করবে, সব পর্যায়ের ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সজাগ দৃষ্টি রাখা জরুরি। শিবিরের বি টিম হিসেবে মোকাবিলায় আসা কাউকে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। এ ছাড়া গুপ্ত রাজনীতিতে জড়িতদের হাত থেকে সংগঠনগুলো উদ্ধার করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতে ফিরিয়ে দিতে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ প্রশাসনকে তথ্য দিতে এবং কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিশ্চিতে সব শিক্ষার্থীর সহযোগিতা কামনা করেন ছাত্রদল সভাপতি।

