সুদের টাকার বিরোধে ব্যবসায়ী খুন, সিমেন্টের নিচে লুকানো হয়েছিল মরদেহ
পাওনা সুদের ৩ লাখ টাকাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর লালবাগে শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামের এক আবাসন (ডেভেলপার) ব্যবসায়ীকে প্রাণ নাগাল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত মরদেহ মাটির নিচে চাপা দিয়ে তার ওপর সিমেন্টের ঢালাই করে রাখে। নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে লালবাগের একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে লালবাগের ৯ নম্বর বি সি দাস স্ট্রিটের ২৬ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাড়িতে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযান শেষে ভবনের নিচতলার বারান্দার পাশের মাটি খুঁড়ে মরদেহ বের করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ইমিটেশন জুয়েলারি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মাসুমকে আটক করেছে লালবাগ থানা পুলিশ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও ডিবি পুলিশের সদস্যরাও, সেখান থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বকেয়া সুদের অর্থ ও জামানতের চেক ফেরত চেয়ে মাসুমের পাইকারি কারখানায় যান রনি। সেখানে বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। বিরোধ চরমে উঠলে মাসুমের ঘুষিতে রনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লম্বা দেন, এরপর তাকে হত্যা করা হয়। মৃত্যুর পর কারখানার নিচতলার বারান্দার পাশে গর্ত খুঁড়ে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয় এবং তার ওপর সিমেন্ট ঢেলে প্রমাণ গোপনের চেষ্টা করা হয়।
নিহতের শ্যালক মুরাদ হোসেন জানান, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর থেকেই রনির মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। আত্মীয়স্বজন ও সম্ভাব্য সব স্থানে খুঁজে না পেয়ে লালবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি ও নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করা হয়। খোঁজখবর নিতে মাসুমের বাসায় গেলে তার স্ত্রী দাবি করেন, রনি বাসায় এসেছিলেন, কিছুক্ষণ পর চলে গেছেন। তবে পুলিশের তদন্তেই আসল রহস্য উন্মোচিত হয়। ক্ষোভে ফুঁসে মুরাদ হোসেন বলেন, আমার বোনের স্বামীকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। মেরে মাটির নিচে চাপা দিয়ে ওপরে সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

