বড় ইনিংসের খোঁজে লিটন

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের ওয়ানডে সিরিজে তামিম ইকবালের সঙ্গে টানা ওপেন করে এনামুল হকের ব্যর্থতা তাঁকে আবার ওপেনিংয়ে ফিরিয়ে আনায় রেখেছে বড় ভূমিকা। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে সৌম্য সরকারের ব্যর্থতাও। যুক্তরাষ্ট্রে শেষ দুই ম্যাচে তাই ওপেনিংয়ে উঠে আসেন লিটন কুমার দাশ। সিরিজ নির্ধারণী টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৩২ বলে ৩ ছক্কা ও ৬ বাউন্ডারিতে খেলা ৬১ রানের ম্যাচ জেতানো বিস্ফোরক ইনিংস আসছে এশিয়া কাপেও তামিমের ওপেনিং সঙ্গী হিসেবে অবধারিতভাবেই লিখে দেয় লিটনের নাম।

কিন্তু এই ওয়ানডে ফরম্যাটেই যে বড্ড বিবর্ণ এই প্রতিভাবান ব্যাটসম্যানের পরিসংখ্যান। এ পর্যন্ত ১২টি ওয়ানডে খেলে ফিফটি নেই একটিও। সর্বোচ্চ ইনিংস তাও মাত্র ৩৬ রানের। অবশ্য অন্যান্য ফরম্যাটেও যে নামের প্রতি খুব সুবিচার করেছেন লিটন, তাও নয়। ১৫টি টি-টোয়েন্টি খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজেই করেছেন প্রথম ফিফটি। ১০ টেস্ট খেলেও নেই কোনো তিন অঙ্কে পৌঁছানো ইনিংস। তিন ফিফটির একটিকে অবশ্য এই বছরের শুরুতেই তিন অঙ্কের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পেরেছিলেন। চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আউট হয়েছিলেন ৯৪ রান করে। ঘরোয়া ক্রিকেটে রীতিমতো রান-বন্যা বইয়ে দেওয়া লিটন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনো ওরকম বড় কিছু করতে পারেননি। যদিও তাঁর ব্যাটিংয়ে নিয়মিতই বড় কিছুর সম্ভাবনার ঝিলিক দেখা যায়। সেটি আবার মিলিয়ে যেতেও সময় নেয় না। বাজে শটে আত্মাহুতি দেওয়ার ঘটনাও কম নয়।

লিটনও জানেন এ রকম যত বেশি ঘটতে থাকবে, তত বেশি বড় হওয়ার সম্ভাবনাও কমতে থাকে। আসন্ন এশিয়া কাপ থেকে বড় হওয়ার সেই সম্ভাবনাই বাড়িয়ে আসতে চান তিনি, ‘যাঁরা বড় বড় ক্রিকেটার, তাঁরা ভালো শুরু করতে পারলে ইনিংস লম্বা করেন। এখনো বড়দের কাতারে যেতে পারিনি তো, তাই এখন বড় ইনিংস হচ্ছে না। আমি চেষ্টা করছি ভালো কিছু করার। চেষ্টা করছি যেন বড় কিছু করতে পারি।’ সেই বড় কিছু করার জন্য সঠিক বল নির্বাচনেই জোর দিচ্ছেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান, ‘আসলে আউট হতে তো একটি বলই লাগে। সেটি নিয়েই কাজ করছি এখন, যাতে শটগুলোতে পারফেকশন আনা যায়। শুধু উইকেটে পড়ে থাকলে তো হবে না, রানও করতে হবে। রান করতে হলে শটও খেলতে হবে, ব্যাটও চালাতে হবে। সেই বিষয়গুলোই এখন বিবেচনা করছি যে কোন শটটি খেললে রান পাওয়া যাবে। সেগুলোই চেষ্টা করছি শতভাগ। চেষ্টা করছি মারার জন্য বল নির্বাচন যেন ভালো হয়।’

শেয়ার করুণঃ

shares