প্রধানমন্ত্রী যেন আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেনঃ নওশাবা

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান অভিনেত্রী নওশাবা আহমেদ। ২৩ আগস্ট তার স্বামী এহসান রহমান জিয়া নওশাবার ঈদ শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন বিষয়ক একটি পোস্ট দেন তার ফেসবুক ওয়ালে।

‘দেশের সবাইকে ঈদুল আজহার বিলম্বিত শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনারা জানেন, আমাকে ঈদের আগের বিকেলে নিম্ন আদালত জামিন প্রদান করেছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীন বিচার বিভাগ তার মানবিকতার উজ্জ্বল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমি অভিভূত।

আমার একমাত্র কন্যা প্রকৃতি’র সাথে ঈদের আনন্দ পরিপূর্ণভাবে অনুভব করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর উপযুক্ত ভাষা আমার জানা নেই।

তিনি বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষের একজন পরীক্ষিত, প্রকৃত ও সুযোগ্য অভিভাবক, এই ভূমিকার বাইরেও তিনি যে একজন মমতাময়ী মা, তা আবারও আমি নিজে একজন মা হিসেবে হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে বুঝতে পারলাম। নিকট অতীতেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার মাতৃত্বসুলভ গুণাবলীর অনেক দ্রষ্টান্ত তিনি রেখেছেন।

পুলিশ, র‍্যাব, ডিবি, সাইবার ক্রাইম ইউনিট আর কাশিমপুর কারাগারে দায়িত্বরত আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি সদস্য, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের
চিকিৎসকেরা এবং নার্সেরা– যারাই আমাকে অনেক প্রফেশন্যালিজম আর সহমর্মিতার সাথে প্রতিটি স্তরে হেফাজত করেছিলেন, তাদের প্রতিও আমার আকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতা।

অভিনয় শিল্পী সমিতির প্রেসিডেন্ট এবং সদস্যবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষক-ছাত্রছাত্রী, বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মী আর বাংলাদেশের সকল শিশুসহ আমার শুভাকাংক্ষীদের বলতে চাই– আপনারা যারা বিগত কয়েক সপ্তাহে আমার পরিবারের পাশে থেকেছেন, ক্রমাগত সাহস আর আশ্বাস দিয়েছেন, যার যার ব্যক্তিগত ও পেশাগত অবস্থান থেকে এগিয়ে এসেছেন, তাদের জন্য আমার অনেক ভালোবাসা রইল।

আপনাদের সবার নিঃস্বার্থ প্রার্থণাতেই আমার মেয়ে প্রকৃতি ঈদের সারাটা দিন তার মা’কে কাছে পেয়েছে।

পরিশেষে আমি আবারও একান্ত অনুরোধ করে বলতে চাই, যেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার চিরায়ত মাতৃত্বসুলভ মমতায় আমার আবেগতাড়িত ও অনিচ্ছাকৃত ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন।

কাজী নওশাবা আহমেদ
ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০১৮’

উল্লেখ্য, ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মামলায় ৪ আগস্ট রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে নওশাবাকে গ্রেফতার করা হয়। ৫ আগস্ট র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব)-১-এর ডিএপি আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন ২০০৬ সালের ৫৭(২) ধারায় রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

এই মামলায় ২১ আগস্ট, মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস নওশাবাকে জামিন দেন। ২ অক্টোবর পর্যন্ত নওশাবার জামিন বহাল থাকবে বলে জানান নওশাবার আইনজীবী।

শেয়ার করুণঃ

shares