পাকিস্তানকে চাপে ফেলে ক্ষেপণাস্ত্র সফল পরীক্ষা চালানোর দাবি ভারতের

পাকিস্তানকে চাপে ফেলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম একটি ইন্টারসেপ্টরের সফল পরীক্ষা চালানোর দাবি করল ভারত। প্রতিরক্ষা গবেষণা উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) গত ২ আগস্ট পূর্ব উপকূলের আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে অ্যাডভান্সড এরিয়া ডিফেন্স (এএডি) ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপনের কথা ঘোষণা করে। সংস্থার এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই এনডো-এটমোসফেরিক মিসাইল ১৫ থেকে ২৫ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত ধেয়ে আসা কোনও মিসাইল আটকে দিতে সক্ষম। এটি একই সঙ্গে একাধিক ১,৫০০ কিলোমিটার শ্রেণীর ব্যালিস্টিক মিসাইল বাধা দিতে পারবে।’ পরীক্ষা পুরোপুরি সফল হয়েছে বলেও ডিআরডিও দাবি করে।
ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচি দুই স্তুরের। পৃথ্বী ক্ষেপণাস্ত্র হল আউটার স্পেসে এক্সো-এটমোসফেরিক ইন্টারসেপ্টর, আর এএডি মিসাইল হল এনডো-এটমোসফেরিক। দ্বিতীয়টি পৃথিবীর আবহাওয়া মণ্ডলেই ইন্টারসেপ্টরের কাজ করবে। এটা কাজ করবে টাগের্ট ওয়ারহেড যখন টার্মিনাল পর্যায় বা তার চূড়ান্ত গন্তব্যস্থলের কাছাকাছি থাকবে। এটা ১৯৬০’র দশকে আমেরিকার অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমের মতো। ওই ব্যবস্থায় সেফগার্ড ও স্প্রিন্ট মিসাইল বা কোনও ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করা হতো। দূরপাল্লার ক্ষেত্রে কোনও ক্ষেপণাস্ত্রকে টার্গেট থেকে অনেক দূরে আটকে দেওয়া যায়। আর স্বল্পপাল্লার ক্ষেত্রে দূর-পাল্লার স্ক্রিনে ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশ করার পর বাধা দেওয়া হয়। এটা বিশ্বের দ্বিতীয় জনসংখ্যাবহুল একটি দেশের জন্য ছোটখাট কোনও গর্বের বিষয় নয়। একসময় যে দেশ দারিদ্রের প্রতিমূর্তি ছিল, এখন সেই দেশ ষষ্ঠ-বৃহৎ অর্থনীতি। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশেষজ্ঞ মাইকেন পেকের মতো সমালোচকরা বলছেন, ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার আরও একটি বিপদ রয়েছে। ১৯৬০’র দশকে আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন অ্যান্টি-মিসাইল সিস্টেম গড়ে তুলছিল তারা প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র বা ওয়ারহেড বানানোর প্রতিযোগিতাতেও লিপ্ত হয়েছিল। সেই রকম ভারত ও পাকিস্তানও প্রতিযোগিতায় নামবে।
জর্জ টাউন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর সি ক্রিস্টিন ফেয়ার বলেন, ভারত ও পাকিস্তান এরই মধ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। পাকিস্তান পারমাণবিক কর্মসূচি বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারত তার মজুত বাড়ানোর পথে যাচ্ছে না। পাকিস্তান যখন টেকটিক্যাল নিউক্লিয়ার উইপন বাড়ানোর চেষ্টা করছে তখন ভারত নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছে। এতে বিশ্বে ভারতেরই শক্তি বাড়ছে। আরও এক অধ্যাপক নিউ ইয়র্ক আলবানি’র স্টেট ইউনিভার্সিটির ক্রিস্টোফার ক্লারি বলেন, পাকিস্তানের যেহেতু ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স নেই তাই সে ডেলিভারি ভেহিকেলে অনেক বেশি সংখ্যক ওয়ারহেড মোতায়েন করবে। তিনি বলেন, পাকিস্তান তার বর্তমান ব্যালিস্টিক মিসাইলের জন্য মাল্টিপল ওয়ারহেড উদ্ভাবন করতে পারে অথবা ট্যাকটিক্যাল নিউক্লিয়ার উইপন ও ক্রুজ মিসাইল তৈরি করতে পারে। বাধ্য হয়ে তখন ভারতও অস্ত্র তৈরিতে মনযোগ দেবে এবং স্নায়ুযুদ্ধের মতো একটি দুষ্টচক্র তৈরি হবে। তবে সি ক্রিস্টিন ফেয়ার সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘ভারতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভারত প্রায়ই নিজের সামর্থ্যকে বাড়িয়ে বলে। এতে পাকিস্তান উজ্জীবিত হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো ভারত যা বলছে সেই সামর্থ্য অর্জন থেকে অনেক দূরে থাকতেই পাকিস্তান এর পাল্টা ব্যবস্থা উদ্ভাবন করে ফেলে।
ভারত আমেরিকা থেকে বিধ্বংসী ড্রোন কেনার কথা প্রকাশ্যে আনতেই, মনুষ্যবিহীন আকাশ যান বা ড্রোন জ্যাম করে দেওয়া বা এর গতিপথ পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে ড্রোনের সিগন্যাল হ্যাক করার সামর্থ্য বাড়ানোর চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে পাকিস্তান। নয়াদিল্লির একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এই সামর্থ্য বৃদ্ধির জন্য পাকিস্তান বিমান বাহিনী (পিএএফ) চীনের কাছে সাহায্য চেয়েছে। চীনের এম/এস এরিস, বেজিং এসজেডএমডি হিটেক কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে একটি নতুন ডিজাইনের পোর্টেবল ড্রোন জেক্স গান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। সূত্রের খবর, ড্রোন জেক্স গান যে কোনও ড্রোন ও গ্রাউন্ড স্টেশনের মধ্যে কন্ট্রোল সিগন্যাল জ্যাম করে দিতে পারে। এর ফলে ড্রোনটি মাটিতে নেমে আসতে বাধ্য হয়। এর কার্যকর পাল্লা ১ কিলোমিটার এবং দাম ৭,০০০ মার্কিন ডলার। এই গান একটি পোর্টেবল ডিভাইস এবং ব্যাকপ্যাকে বহনযোগ্য। এটি কোনও ড্রোনের দিক তাক করা হলে তা ওই ড্রোনটির সিগন্যাল কেটে দেয় বা এর গ্রাউন্ড স্টেশনের সঙ্গে ভিডিও স্ট্রিমিং যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এটা লক্ষ্যবস্তুকে তার গতিপথ পরিবর্তন করে ইচ্ছে মতো জায়গায় অবতরণেও বাধ্য করতে পারে। ফলে ফরেনসিক তদন্তের জন্য উড়ন্ত বস্তুটি অক্ষত থাকে।

শেয়ার করুণঃ

shares