ডিসেম্বর থেকেই পোশাক খাতে নতুন মজুরি

পোশাক খাতের নতুন মজুরি নির্ধারণে ছাড় দিতে রাজি হয়েছেন মালিক ও শ্রমিক পক্ষ। মজুরি বোর্ডে দেওয়া প্রাথমিক প্রস্তাব থেকে কিছুটা বাড়াবেন মালিকরা। অন্যদিকে প্রাথমিক প্রস্তাব থেকে কিছুটা কমিয়ে মজুরি নির্ধারণে সম্মত হয়েছেন শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি।

কার পক্ষে কতটুকু ছাড় দিলে গ্রহণযোগ্য একটা মজুরি নির্ধারণ করা যাবে, সে বিষয়ে বোর্ডের সোমবারের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে মজুরি যখনই ঘোষণা হোক না কেন, বাস্তবায়ন হবে আগামী ডিসেম্বর থেকে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে  সোমবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠ জেলা জজ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি শামসুন্নাহার ভূঁইয়া, দু’পক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধি এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের শ্রম উপদেষ্টা কাজী সাইফুদ্দীন আহমদ, শ্রমিক পক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধি শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, মজুরি বোর্ডের বর্ধিত সময়সীমা শেষ হবে আগামী ১৭ অক্টোবর। এ সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত মজুরি ঘোষণা করবেন তারা। এর পর মন্ত্রণালয় কার্যকর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনায় সরকার গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের তৃতীয় সভায় গত ১৬ জুলাই নূন্যতম মজুরি হিসেবে ৬ হাজার ৩৪০ টাকা প্রস্তাব করেন মালিক পক্ষের প্রতিনিধি। এ প্রস্তাবের প্রায় দ্বিগুণ ১২ হাজার ২০ টাকা প্রস্তাব করেন শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি। উভয় প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করে এ খাতের শ্রমিক সংগঠনগুলো।

নিম্নতম মুজুরি ১৬ হাজার টাকা করার দাবির পক্ষে অনড় সংগঠনের নেতারা। সোমবারও মজুরি বোর্ডের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন এবং বোর্ডে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে।

বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, বৈঠকে বিভিন্ন খাতের নিম্নতম মজুরির বিস্তারিত, মূল্যস্ফীতি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত চুলচেরা বিশ্নেষণ করেছেন তারা। গবেষণা সংস্থা সিপিডির প্রস্তাবও বিবেচেনায় নেওয়া হয়েছে। মালিক এবং শ্রমিক পক্ষের বক্তব্যও শুনেছে বোর্ড। এর পর একটা গ্রহণযোগ্য মজুরি ঘোষণার স্বার্থে দু’পক্ষকে তাদের প্রাথমিক প্রস্তাব থেকে ছাড় দিয়ে কাছাকাছি আসতে অনুরোধ করা হয়েছে।

তিনি জানান, উভয় পক্ষই ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। এখন মালিক ও শ্রমিক পক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর বোর্ডের পরবর্তী বৈঠকে সেই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।

এ সময় বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আগামী বৈঠকেই যে মজুরি চূড়ান্ত হবে সে কথা বলা যাবে না। তবে যখনই ঘোষণা করা হোক না কেন গতবার নূন্যতম মজুরি যে তারিখে কার্যকর হয়েছে, এবারও সেই একই তারিখ অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, বোর্ডের সব সদস্য একটা গ্রহণযোগ্য মজুরি নির্ধারণে কাজ করছেন- যাতে শিল্প এবং শ্রমিক সব পক্ষই বাঁচে। পোশাক ব্যবসার ধরন স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, তৈরি পোশাক শুধু রফতানি আয়ের প্রধান খাতই নয়, একই সঙ্গে ৪৪ লাখ শ্রমিকের রুটি রুজির জায়গা। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা মোকাবেলা করেই এ খাতকে টিকে থাকতে হয়।

২০১৩ সালের নভেম্বরে সর্বশেষ নূন্যতম মজুরি ঘোষণা করা হয়। ঘোষণার এক মাস পর ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়। সে অনুযায়ী এন্ট্রি লেভেলে একজন শ্রমিক নিম্নতম পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন। এর অতিরিক্ত বছরে ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পাচ্ছেন শ্রমিকরা।

শেয়ার করুণঃ

shares