আদালতে আস্থা নেই, যত ইচ্ছা সাজা দিক

পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের অস্থায়ী আদালতে আস্থা নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, ‘এই আদালতে কোনো ন্যায় বিচার নেই। তাই আপনি (বিচারক) যত ইচ্ছা সাজা দিন। আমি আর এ আদালতে বারবার আসতে পারব না।’

খালেদা জিয়া আরও বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা এই আদালত সম্পর্কে কিছু জানেন না। ১০ দিন আগে এই আদালত গঠন হয়েছে। অথচ গতকাল মঙ্গলবার এর গেজেট প্রকাশ করা হলো।’

আজ বুধবার কেন্দ্রীয় কারাগারের অস্থায়ী আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামানের আদালতে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে করে ১২টা ১৫ মিনিটে ওই আদালতে হাজির করে মহিলা কারারক্ষী। ওই সময় তার গৃহকর্মী ফাতেমাও তার সঙ্গে ছিলেন। সে সময় খালেদা জিয়াকে বিষন্ন ও বিরক্ত দেখাচ্ছিল।

এদিকে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের অস্থায়ী আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানি আজকের মতো শেষ হয়েছে। এ মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছেন আদালত।

এর আগে খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে আদালত বসার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কারাগার ঘিরেও গড়ে তোলা হয় কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী।

সরেজমিন দেখা গেছে, কারাগারের আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য অবস্থান নিয়েছেন। আশপাশের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। তবে সাধারণ লোকজন যাতায়াত করতে পারলেও তাদের তল্লাশি করে যেতে দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি কক্ষকে গতকাল মঙ্গলবার অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। ওই কারাগারেই একমাত্র বন্দী হিসেবে আটক রয়েছেন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া।

২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ মামলায় ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়। মামলাটিতে বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী এবং তার তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আসামি।

শেয়ার করুণঃ

shares