অবহেলা অার অনাদরে বিদ্যাকুট ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সতীদাহ মন্দির

 

  • নিজস্ব প্রতিবেদকঃ- বাংলাদেশর সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে।কেননা এই জেলা অজস্র ঐতিহাসিক এবং দর্শনীয় স্থানে ভরপুর।বিদ্যাকুট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এবং নবীনগর উপজেলার অন্তর্গত একটি অাদর্শ ইউনিয়ন।এই ইউনিয়নটি সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের নদী।  বিদ্যাকুট ইউনিয়নের একটি ঐতিহাসিক এবং দর্শনীয় স্থান হল সতীদাহ মন্দির । এই মন্দিরটি বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বিদ্যাকুট গ্রামের পুরাতন ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অবস্থিত । ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে সতীদাহ/ সহমরন প্রথা বাতিলের পূর্বে, বিদ্যাকুট গ্রামের দেওয়ান বাড়ীর ভরতদ্যাজ রায় বর্মন সম্প্রদায় ভূক্ত স্বর্গীয় কীর্ত্তি চন্দ্র রায় বর্মনের স্ত্রী স্বর্গীয় চন্দ্রকলা রায় বর্মন স্বামীর সাথে সহমরন করেন । আনুমানিক ১৮০০ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই স্মৃতিসৌধ সতীদাহ মন্দিরটি নির্মিত হয়।
  • উল্লেখ্য, ৪ ডিসেম্বর ১৮২৯ সতীদাহ প্রথা আইন করে তুলে দেওয়া হয়৷ সতীদাহ প্রথা হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিধবা নারীদের স্বামীর চিতায় সহমরণে বা আত্মহুতি দেবার এক প্রথা, যা পরবর্তীকালে রাজা রামমোহন রায়ের উদ্যোগে বন্ধ হয়।
  • স্থানীয়দের তথ্যমতে ——-
  •  মন্দিরটির নাম সতীদাহ মন্দির। এটি নির্মাণ করেছিলেন বিদ্যাকুটের প্রসিদ্ধ হিন্দু দেওয়ান বাড়ির লোক দেওয়ান রাম মানক। এদেশে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা চালু ছিল। স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকে মৃত স্বামীর সঙ্গে জীবন্ত দাহ করা হত। কোন কোনক্ষেত্রেই সদ্য বিধবারা স্বেচ্ছায় মৃত্যু বরণ করত। কিন্তু অধিকাংশক্ষেত্রেই বলপূর্বক দাহ করা হত। জীবন্ত সতী নারীর চিৎকার যেন না শুনা যায় সে জন্য খুব জোরে ঢাক এবং বাদ্য যন্ত্র বাজানো হত।

 

  • ১৮২৯ সনে লর্ড উইলিয়াম বেনটিংক আইন করে বন্ধ করে দেন এই প্রথা। লর্ড বেনটিংক কর্তৃক সতীদাহ নিষিদ্ধ ঘোষণার পর ভারতের অন্যান্য স্থানের মত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও এ প্রথাবন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ১৮৩৫ সনে রাম মানিকের মাতাকে এই সতীদাহ মন্দিরটিতে সর্বশেষ সতীদাহ বরণ কারিণীর নাম শ্বেত পাথরের একটি নাম ফলকে বসানো ছিল। গত স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এটি বিনষ্ট হয়। বর্তমানে বিদ্যাকুটে তাদের বংশধরেরা না থাকায় সেই সতী নারীর নাম জানা যায়নি।
  • এই ঐতিহাসিক সতীদাহ মন্দিরটি বিদ্যাকুট ইউনিয়নের  প্রাণ।কিন্তু বড়ই অাফসোসের বিষয় বিদ্যাকুট ইউনিয়নবাসী তাদের প্রাণের অস্তিত্বকে প্রমাণ  করতে বরাবরই ব্যর্থ !!!! যে মন্দিরটি কেবল বিদ্যাকুট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া তথা বাংলাদেশকে নয় পুুরো ভারতীয় উপমহাদেশকেে রিপ্রেজেন্ট করে সে মন্দিরটি অাজ কালচে শেওলায় অাচ্ছন্ন!!! চোখের সামনে  অনাদর অার অবহেলায় পড়ে থাকা মন্দিরটি অাজ অামাদেরকে অভিশপ্ত করছে এবং জানান দিচ্ছে, বীর হতে বলেছিলুম,হীন হতে নয়!!! অাজ বিদ্যাকুট ইউনিয়নের তরুণরা জানে না তাদের ঐতিহাসিক গর্বের ইতিহাস।অামদের ঐতিহ্যের ইতিহাস অাজ ধোলাবালি,জরাজীর্ন, কালচে শেওলাই পতিত।এই লজ্জা লুুুকাব কোথায় ??

 

  • তবু বিদ্যাকুট ইউনিয়নবাসী অাজও স্বপ্ন দেখে কোন এক মহাজনকে নিয়ে, যার পিদিমের অালোয় হাজার বছরের অন্ধকার সাফ হবে।যার হাত ধরে মন্দিরটি টাইলস হবে, শ্বেতপাথরে লেখা থাকবে বিদ্যাকুট সতীদাহ মন্দির এবং তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। চারপাশের জায়গাজুড়ে হবে ছোট্র একটি পার্ক। যেখানে বাবা তার মেয়েকে নিয়ে এসে গল্প করবে এবং জানাবে যথার্থ ইতিহাস।
  • ডিজিটাল বাংলাদেশ কি পারবে বিদ্যাকুট ইউনিয়নের এই ঐতিহ্যটাকে বাঁচিয়ে রাখতে?? কোন এক মহাজন কি সত্যিই অাসবে বিদ্যাকুট ইউনিয়নবাসীর ক্ষুদ্র স্বপ্নটাকে বাস্তবায়িত করতে???? নাকি অাবারো স্বপ্নভঙ্গ???সমাজপতিদের প্রতি প্রশ্নটা থেকেই যায়??

 

শেয়ার করুণঃ

shares