সাগর-উপকূলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জার্মান বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ স্পিকারের
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাসের সন্ধান চালাতে জার্মানির বিশেষজ্ঞদলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকেই সম্পদ অনুসন্ধানে জার্মান কারিগরি দলের আগমনের প্রস্তাব রাখা হয়।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানি গণতান্ত্রিক চেতনায় একে অপরের ভ্রাতৃসম। সদ্যসমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জার্মান পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি দুই দেশের প্রাচীন বন্ধুত্বকে আরও মজবুত করেছে। তিনি আরও জানান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে এ দেশের মানুষ কোনোদিন পিছু হটেনি এবং গণতন্ত্রের জন্য বারবার আত্মোৎসর্গ করেছে।
দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার ইতিহাস স্মরণ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘকাল শোষণ-বঞ্চনার শিকার। পাকিস্তানি শাসনামলে গণতান্ত্রিক বৈষম্য চরম রূপ ধারণ করেছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা একাধিকবার বিঘ্নিত হয়। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের অপশাসনে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। গুম, খুন, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে নেমেছিল। এরপরই নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে।
এ সময় জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন, টানা ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ একনায়কতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রের পথে রূপান্তর সহজ করেছে। নবনির্বাচিত সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে জার্মান সরকারের সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ-জার্মানি সংসদীয় কমিটি গঠন, মৈত্রী গ্রুপের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির প্রসার, বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপকূলীয় এলাকায় তেল-গ্যাস কূপ অনুসন্ধান এবং সার কারখানা স্থাপনে গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

