জুলাই অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘদিন নিরুদ্দেশে থাকা সাবেক স্পিকার ও সংসদ সদস্য শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রাজধানীর একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে বুধবার ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে ২০ মিনিট শুনানির পর বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করেন। এর আগে মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিল পুলিশ, কিন্তু আদালত সে আবেদনও খারিজ করে দেন।
আদালত থেকে শিরীন শারমিনকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা স্লোগান দিলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এই হুড়োহুড়ির মধ্যে আদালত ভবনের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান সাবেক এই স্পিকার। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে টেনে তুলেন। এ বিষয়ে হাজতখানায় দায়িত্বরত উপপরিদর্শক মো. মোরশেদ আলম সাংবাদিকদের দাবি করেন, শিরীন শারমিন পড়েননি, শুধুমাত্র সিঁড়িতে দাঁড়ানোর সময় তার পা একটু বেঁকে যায়, যা নারী পুলিশ সদস্যরা সামলে নেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় আজিমপুর সরকারি কলোনিতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ওই ঘটনায় একজনের স্থায়ীভাবে চোখের দৃষ্টিশক্তি চলে যায়। গত রাতে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুনানিতে পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ করেন, শিরীন শারমিন ফ্যাসিস্ট সরকারের অংশ ছিলেন এবং আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেখান, এজাহারে শিরীন শারমিনের নাম থাকলেও ঘটনার সাথে তার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই।
সম্পাদক: রাশিদা খাতুন
লালমাটিয়া হাউজিং স্টেট, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা–১২০৭, বাংলাদেশ।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © ২০২৬ প্রাইম বার্তা