মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের বাজারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের সংকট নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকাসহ সারাদেশের পাম্পগুলোতে এখন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন আর হাহাকার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জনগণের এই দুর্ভোগের মধ্যেও সরকার দৃঢ়ভাবে দাবি করছে যে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন বাস্তব অবস্থার প্রতিফলন নয়; বরং অতিরিক্ত ক্রয় ও মজুদের কারণে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। তবে সরকারের এই আশ্বাস সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে প্যানিক বাইয়িং বা আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, লম্বা লাইন এড়াতে অনেকেই বোতল ও ড্রাম নিয়ে হাজির হচ্ছেন। কেউ কেউ আবার বাইসাইকেলে করে মোটরসাইকেলের ট্যাংকি নিয়ে এসে তেল সংগ্রহের অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। এমনকি তেল না পেয়ে এক পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগও উঠেছে। সংকটকে পুঁজি করে একটি প্রভাবশালী মহল খোলাবাজারে লিটারপ্রতি ২০০ টাকার ওপর দরে তেল বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সমাজ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তৌহিদুল হক মনে করেন, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবেই সামাজিক বৈকল্য ও বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। তিনি বলেন, লাভের লোভ ও আতঙ্ক থেকে মানুষ অতিরিক্ত পণ্য সংগ্রহ করছে, যা পরিস্থিতি আরো ঘোরালো করছে। সরকার রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করলেও সারাদেশের অধিকাংশ পাম্পে 'তেল নেই' সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখা বা সীমিত পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহের ঘটনায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।
সম্পাদক: রাশিদা খাতুন
লালমাটিয়া হাউজিং স্টেট, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা–১২০৭, বাংলাদেশ।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © ২০২৬ প্রাইম বার্তা