সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে যে, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ বাহিনীতে ব্যাপক দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। গোপালগঞ্জসহ মোট ছয়টি জেলার জেলা কোটায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অবৈধভাবে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নামও এসেছে। বর্তমানে এই অনিয়মের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
অন্যান্য জেলাগুলোর মধ্যে ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, বাগেরহাট এবং খুলনা অন্যতম। ক্ষমতার সুবিধা নিয়ে বিরোধী মত দমন ও নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। এই চক্রান্তে মূল ভূমিকা পালন করেন তৎকালীন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবুর রহমান, যিনি পরবর্তীতে ডিএমপি কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ আছে, শুধুমাত্র দলীয় লোক বসানোর জন্যই নয়, বরং বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন এবং এতে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থান ঘটে।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সারাদেশের পুলিশ সুপারদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই ছয় জেলার অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা ও বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে শুরু হওয়া এই অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া অনেকেই ইতিমধ্যে এএসআই এবং এসআই পদে পদোন্নতি পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এমনকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে তারা দলীয় কর্মীর মতো আচরণ করে আসছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে এই জালিয়াতির সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে।
সম্পাদক: রাশিদা খাতুন
লালমাটিয়া হাউজিং স্টেট, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা–১২০৭, বাংলাদেশ।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © ২০২৬ প্রাইম বার্তা