বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারী উপসচিবকে প্রায় ৮২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে মনিরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পরিচয়ের পর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে প্রতারণা ও শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন অভিযুক্ত। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বর্তমানে দুটি মামলা দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে 'পাত্রী চাই' বিজ্ঞাপন দেন মনিরুজ্জামান। এরই সূত্র ধরে ওই নারী উপসচিবের সাথে তার পরিচয় হয়। মোবাইল ফোনে নিয়মিত কথা বলা এবং সিলেট ও ঢাকার মিরপুরে একাধিকবার দেখা করার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন আসামি। এরই মধ্যে সাভারে একটি আবাসিক প্লটে বাড়ি নির্মাণের কথা বলে ওই নারীকে প্রভাবিত করেন তিনি।
বিশ্বাসস্থলে পেয়ে ভুক্তভোগী তার জনতা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের হিসাব থেকে আইএফআইসি ব্যাংকের একটি হিসাবে মোট ৭২ লাখ ৮৫ হাজার ৭০০ টাকা স্থানান্তর করেন। এছাড়া নগদ ও অন্যান্য মাধ্যমে আরও প্রায় ১০ লাখ টাকা দেন তিনি। তবে বাড়ির কাজ নিয়ম মতো না এগোলে এবং বিয়ের জন্য চাপ দিলে আসামি টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি বিয়েতে অস্বীকৃতি জানান এবং টাকা ফেরতের দাবি করলে ভুক্তভোগীকে হুমকি দেন। অভিযোগ আছে, এরই মধ্যে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি ও ১৮ ফেব্রুয়ারি ওই ব্যক্তি আবারও একই পত্রিকায় 'পাত্রী চাই' বিজ্ঞাপন দেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রতারণা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় আলাদা দুটি মামলা করেছেন। ভুক্তভোগীর আইনজীবী জিয়াউল হক সুমন জানান, সরলতার সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই প্রতারণা করা হয়েছে। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী কাজী মেহেদী হাসান দাবি করেন, তার মক্কেল নির্দোষ। ব্যাংকের মাধ্যমে নেওয়া অর্থ বাড়ি নির্মাণেই ব্যবহৃত হয়েছে এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই এই বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে মামলা দুটি তদন্তাধীন রয়েছে।
সম্পাদক: রাশিদা খাতুন
লালমাটিয়া হাউজিং স্টেট, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা–১২০৭, বাংলাদেশ।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © ২০২৬ প্রাইম বার্তা