যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটিতে তৈরি হয়েছে বিরাট নেতৃত্ব শূন্যতা। চলমান যুদ্ধ পরিচালনা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো টিকিয়ে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল গঠন করেছে তেহরান। এই কাউন্সিলে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেইয়ের সঙ্গে রয়েছেন নিহত নেতার অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী আয়াতুল্লাহ আলীরেজা আরাফি। খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে এই তিন জনের মধ্য থেকেই একজনকে শীঘ্রই বেছে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হামলার পর থেকে ইরানের সামরিক বাহিনীর ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কমে গেছে। সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা না থাকায় সেনাবাহিনী ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর জেনারেলরা নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণে আরাফিকে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৫৯ সালে ইয়াজদ প্রদেশে জন্ম নেওয়া আরাফি তরুণ বয়সেই শাহের শাসনের বিরোধিতা করে কারাভোগ করেন। ১৯৮৯ সালে খামেনি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে থাকে এবং তিনি খামেনির অন্যতম বিশ্বস্ত ব্যক্তিতে পরিণত হন।
আলীরেজা আরাফি বর্তমানে ইরানের প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য এবং অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের ভাইস প্রেসিডেন্ট। দীর্ঘদিন তিনি কোমের আল-মুস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে তার যে প্রভাব রয়েছে, তা দীর্ঘদিনের সহযোগিতা থেকেই স্পষ্ট। তাই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দৌড়ে আরাফির নাম এখন সবচেয়ে আলোচিত। তবে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা অন্য দুই সদস্যকেও হিসাবের বাইরে রাখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সম্পাদক: রাশিদা খাতুন
লালমাটিয়া হাউজিং স্টেট, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা–১২০৭, বাংলাদেশ।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © ২০২৬ প্রাইম বার্তা