যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, তেহরানের প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। দোহা, দুবাই ও মানামার ওপর এই হামলা দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ নীতির অবসান ঘটিয়ে এই অঞ্চলকে এক ভয়াবহ সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার পর ইরান যে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে, তার প্রভাবে দোহার আকাশে ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, দুবাই বিমানবন্দর ও মানামার বিখ্যাত ভবনগুলোতে আঘাত হানে এবং কুয়েত ও রিয়াদে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এই পরিস্থিতিতে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো ধনী রাষ্ট্রগুলো এখন এক অসহায় অবস্থায় পড়েছে। তারা কি ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামবে, নাকি নিজেদের স্বপ্নের শহরগুলো ধ্বংস হতে দেখেও নীরব দর্শক থাকবে—এই দ্বিধায় তারা ভুগছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অঞ্চলের দেশগুলোর সামনে সবচেয়ে বড় হুমকি হলো তাদের নিরাপদ বিনিয়োগ ও পর্যটনের গন্তব্য হিসেবে খ্যাতি রক্ষা করা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বা পানি বিশোধনাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যদি আক্রমণের শিকার হয়, তবে এই মরুর দেশগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, তারা সরাসরি পশ্চিমা জোটে না ভেড়ে নিজেদের সামরিক জোট ‘পেনিনসুলা শিল্ড ফোর্স’ বা জিসিসির মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথ বেছে নিতে পারে।
সম্পাদক: রাশিদা খাতুন
লালমাটিয়া হাউজিং স্টেট, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা–১২০৭, বাংলাদেশ।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © ২০২৬ প্রাইম বার্তা