সেনাপ্রধান বলেছেন উন্নয়ন সহায়তায় সেনাবাহিনী এখন ‘ব্র্যান্ড’

ভূমিকম্প পরবর্তী সময়ে সমন্বিত উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে সেনাবাহিনীর আয়োজনে পাঁচ দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।

সেনাবাহিনীর ১৪ স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড ও আর্মি ওয়ার গেম সেন্টারের ব্যবস্থাপনায় আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ হয়। বাংলাদেশে এটিই প্রথম ভূমিকম্পের ওপর কম্পিউটারভিত্তিক প্রশিক্ষণ। বৃহস্পতিবার হয় এর সমাপনী অনুষ্ঠান।

জেনারেল আজিজ বলেন, “সরকারকে জাতীয় উন্নয়নের সব পর্যায়ে ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য এখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত এবং বিশ্বাসযোগ্য ব্র্যান্ড হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে।

“জাতির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পূরণে ‘উষার দুয়ারে’ আমাদের সে রকমই একটি একান্ত প্রচেষ্টা।”

এই প্রশিক্ষণের নাম ‘উষার দুয়ারে-১’। এর ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে আরও প্রশিক্ষণ হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

সেনাপ্রধান বলেন, সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভূমিকম্পে বাংলাদেশের ঝুঁকির বিষয়টি সবারই জানা। ২০১৫ সালে নেপালে ভূমিকম্পে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা জানতে পারব না, পরেরটা কতটা নিকটে হবে, এমনকি বাংলাদেশেই হবে কি না। পরবর্তী ভূমিকম্প কত মাত্রায় আমাদের উপর আঘাত হানবে, সেটাও আমরা জানি না।

“এটা মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।”

ভূমিকম্প মোকাবেলায় জাতির পুরোটা সামর্থ্য কাজে লাগাতে সবাইকে সচেতন করার উপর জোর দেন জেনারেল আজিজ।

তিনি বলেন, “জাতির যে কোনো দুর্যোগে সাড়া দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ক্ষিপ্র এবং কর্মনিষ্ঠই আছে। ভবিষ্যতে দুর্যোগকালে মানুষকে ফলপ্রসূ সেবা দিতে সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডারদের এক মঞ্চে কাজ করতে হবে।”

সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক ভূমিকম্প সংক্রান্ত দুর্যোগ মোকাবেলায় দুটি বিষয়ে নজর দেওয়ার কথা বলেন। একটি হচ্ছে জনগণের মধ্যে সচেতনতা ‍সৃষ্টি ও প্রস্তুতি; অন্যটি হচ্ছে ভূমিকম্পের বিধ্বংসী ফলাফল মোকাবেলায় সামর্থ্য বাড়ানো।

এ ধরনের প্রশিক্ষণকে বাংলাদেশে ভূমিকম্প মোকাবেলার সামর্থ্য বাড়ানোর সুযোগ মনে করেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তারিক সিদ্দিক বলেন, “যদিও এই আন্দোলন পরে হাইজ্যাক হয়ে গেছে। এটা ট্রাফিক আইন প্রয়োগে সরকারের সামনে সুযোগ নিয়ে এসেছে।

অনুষ্ঠানে আর্মি ওয়ার গেম সেন্টারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তোফায়েল আহমেদও বক্তব্য রাখেন।

সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, বিএনসিসি, স্কাউটস, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, তিতাস গ্যাস, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, ডেসকো, আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা সিভিল সার্জন অফিস, পিডিবিসহ বিভিন্ন সংস্থা এই প্রশিক্ষণে অংশ নেয়।

গত ৫ অগাস্ট এই আয়োজন উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর শুরু হয় একাডেমিক সেশন, যা চলে দ্বিতীয় দিনেও।

‘গণমাধ্যম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সশস্ত্র বাহিনী সংক্রান্ত সরকারি নীতি : ধারণা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন মেজর জেনারেল ইমদাদ-উল-বারী।

‘ডিজাস্টার রেসপন্স এন্ড মিডিয়া এজ এ ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ বিষয়ে আলোচনা করেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী।

‘ডিজাস্টার রেসপন্স (ভূমিকম্প/ভবন ধস) এবং গার্মেন্টস খাতে এর প্রভাব’ শীর্ষক বিষয়ে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাসির আলোচনা করেন।

সাবেক সচিব মিকাইল শিপার ‘ভূমিকম্প: শিল্প অবকাঠামো এবং কর্মী বাহিনীর উপর এর প্রভাব’ শীর্ষক বিষয়ে আলোচনা করেন।

শেয়ার করুণঃ

Related posts