দুর্গাপূজায় নৌপথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ: রাতের স্পিডবোট বন্ধসহ ১৬ নির্দেশনা

প্রাইম বার্তা অনলাইন
১২ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০৮ পিএম
দুর্গাপূজায় নৌপথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ: রাতের স্পিডবোট বন্ধসহ ১৬ নির্দেশনা

দুর্গাপূজার ছুটির আগে দেশের নদীপথে যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কঠোর কিছু নির্দেশনা জারি করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। মূল তালিকায় রয়েছে রাতের বেলা স্পিডবোট চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা, লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকানো, ফিটনেসবিহীন নৌযান নামানো, সদরঘাট টার্মিনাল হকারমুক্ত রাখা এবং ফেরিতে ওঠার আগে চালক ছাড়া বাকি সব যাত্রীকে যানবাহন থেকে নামিয়ে নেওয়া।

গত ৮ অক্টোবর জারি করা নির্দেশনায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রতিটি নদীবন্দর ও ঘাট থেকে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রীরা কেবল টার্মিনাল পন্টুন দিয়েই লঞ্চে ওঠানামা করবেন; সদরঘাটে লঞ্চের পেছনে বা পাশে দিয়ে এবং নদীর মাঝপথে নৌকা-ট্রলারের মাধ্যমে ওঠানামা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জ প্রান্ত থেকে ট্রলার বা নৌকা লঞ্চের সঙ্গে ভিড়িয়ে যাত্রী পরিবহনের সুযোগও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

ভাড়া নিয়েও কঠোর অবস্থান মন্ত্রণালয়ের। সরকার অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা প্রতিটি বন্দর, টার্মিনাল, ঘাট ও নৌযানে দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে, যাতে যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়ার হাত থেকে রক্ষা পান। দিনের বেলায় স্পিডবোট নদীর মাঝখান দিয়ে চালানো যাবে না এবং সব যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দরগুলোতে পানীয় জল, পয়ঃনিষ্কাশন, মোবাইল চার্জিং ও ব্রেস্ট ফিডিংয়ের ব্যবস্থা উন্নত করতে বলা হয়েছে; শিশু, নারী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের পারাপারে থাকবে বিশেষ সুবিধা।

দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সবসময় উদ্ধারকারী নৌযান প্রস্তুত রাখা এবং ঢাকা নদীবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার নির্দেশও রয়েছে নির্দেশনায়। ফিটনেসবিহীন লঞ্চ, নৌযান ও ফেরির চলাচল পুরোপুরি বন্ধে নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে কার্যকর ভূমিকা নিতে বলা হয়েছে। ফেরিঘাটগুলোতে কন্ট্রোল গেট স্থাপন করে সিরিয়াল অনুযায়ী অনুমোদিত সংখ্যক যানবাহন ওঠানো নিশ্চিত করতে হবে, অনুমতি ছাড়া কোনো গাড়ি ফেরিতে উঠতে পারবে না। সব ফেরিঘাটে বিলবোর্ড টাঙিয়ে জানানোর কথা বলা হয়েছে—ফেরিতে ওঠার আগে চালক ছাড়া সবাই বাস বা যানবাহন থেকে নেমে যাবেন। এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন হলে পূজার ভিড়ে নৌপথে যাত্রীদের ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে বলে প্রত্যাশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...