জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলা, উৎপাদন বন্ধ সৌদি-কাতারের, ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৩ মার্চ ২০২৬ ৭:৫৮ এএম
জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলা, উৎপাদন বন্ধ সৌদি-কাতারের, ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি খাতে ব্যাপক ধস নামিয়েছে ইরান। তেহরান সোমবার মার্কিন ঘাঁটি ও জ্বালানি অবকাঠামো স্থাপনার ওপর টানা ড্রোন হামলা চালায়, যার ফলে সৌদি আরব ও কাতারসহ বেশ কয়েকটি দেশ তাদের তেল ও গ্যাস উৎপাদন অস্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম রেকর্ড বৃদ্ধি পেয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

সোমবার সকালে ইরানের ছোড়া একটি ড্রোন আঘাত হানলে সৌদি আরব তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার রাস তানুরা বন্ধ করে দেয়। সৌদি আরামকোর এই শোধনাগারটির দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ ব্যারেল। পাশাপাশি কাতারএনার্জির একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনাতেও দুটি ড্রোন হামলা হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের ২০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহকারী দেশটি উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। কুয়েতের আহমাদি তেল শোধনাগারে ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই শ্রমিক আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের মতো উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অভাবে এই উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের কাছে সহজ টার্গেটে পরিণত হয়েছে।

এই হামলার প্রভাবে গত শনিবার থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে, যা এখন কার্যত বন্ধ। বিশ্ববাজারে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম এক দিনের ব্যবধানে ১৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮২ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর থেকে সর্বোচ্চ। নরওয়েভিত্তিক রিস্টাড এনার্জির জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্জ লিওন টোয়েন্টিফোর বলেন, জ্বালানি অবকাঠামোতে এমন হামলা আগে দেখা যায়নি, যা সত্যিই উদ্বেগজনক। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে তেল ও গ্যাসের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে ইরান কোনো আপসের ইঙ্গিত দেয়নি, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন করে হুমকি তৈরি করছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...