লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও ঘনীভূত হয়েছে লেবানন সরকারের সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পর। দেশটির সরকার জানিয়েছে, লেবাননের ভূখণ্ডে হিজবুল্লাহর সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম এখন থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। গত সোমবার (২ মার্চ) ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপের ঘটনার পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী।
লেবাননের শীর্ষ নেতৃত্ব হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে দেশের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিব্যক্তি জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের একতরফা সামরিক তৎপরতা লেবাননকে একটি বড় আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে এবং ইসরায়েলকে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যেও হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, ইরানে চালানো যৌথ হামলার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী শামখানি, সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদুল রাহিম মুসাভি এবং আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফ মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সূত্রের খবর, এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৫৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং হতাহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা শুরু করেছে। ইরানের এসব হামলায় অন্তত চারজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সূত্রমতে, খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহও ইসরায়েলে হামলা শুরু করেছে। এর ফলে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এমতাবস্থায়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক গুরুতর যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

