মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বাড়ায় জ্বালানির বাজারে বড় ধাক্কা, তেলের দাম ছুঁলে ৮২ ডলার

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক সংঘাত এখন বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ইরানের পাল্টা হামলার কারণে কাতার ও সৌদি আরবে জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাতের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম রেকর্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলারের ঘরে প্রবেশ করে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। একইসাথে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও একলাফে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
সংঘাতের প্রভাব সরাসরি পড়েছে জ্বালানি সরবরাহে। রাষ্ট্রায়ত্ত কাতারএনার্জি জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন হামলায় তাদের রাস লাফান শিল্প এলাকায় থাকা এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ করেছে। একইসাথে সৌদি আরবে আরামকোর রাস তানুরা শোধনাগারেও ড্রোন হামলার পর কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার ঘটনায় ওই নৌপথটি অচল হয়ে পড়েছে, যা নিয়ে ইরান সতর্কবার্তা জারি করেছে।
এই অস্থিরতার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। এর বিপরীতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দাম ২ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫,৩৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এমএসটি মারকির জ্বালানি গবেষণা প্রধান সাউল কেভোনিক বলেন, এখনো পর্যন্ত তেল অবকাঠামো প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়নি এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক হলে তেলের দাম আবার কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জ্বালানির দাম দীর্ঘস্থায়ী বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।

