তেহরানে ব্যাপক হামলা, নিহত খামেনি, পাল্টা যুদ্ধের আশঙ্কা

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার লক্ষ্যে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শনিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই যৌথ অভিযানে তেহরানে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতেই এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে দেশটিতে শাসন পরিবর্তনও এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
শনিবার সকালে হোয়াইট হাউসে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প ইরানি বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এটাই তাদের সরকার দখল করার সুবর্ণ সুযোগ। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, এই হামলার মাধ্যমে সাহসী ইরানি জনগণ স্বৈরাচারী শাসনের জোয়াল থেকে মুক্ত হয়ে নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের সুযোগ পাবে। তবে এই হামলার পেছনের যুক্তি নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
প্রকৃতপক্ষে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার কোনো বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাও এমন কোনো তথ্য খুঁজে পায়নি। এর আগে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী ছিলেন, তিনি জানিয়েছিলেন যে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হয়েছে তারা কখনোই বোমা তৈরির মতো পারমাণবিক উপাদান রাখবে না। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ মিলানোভিচ মনে করেন, ইরান আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তবে তা অবশ্যই সংযত ও আনুপাতিক হতে হবে।

