ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০২ মার্চ ২০২৬ ১:৪৬ পিএম
ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে

আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, তেহরান যে প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করেছে তাতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতির চেহারাই বদলে গেছে। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঘটে যাওয়া এই ঘটনার জেরে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং বাহরাইনের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর বুকে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। দোহার আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী, দুবাই বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ এবং মানামা ও রিয়াদে ড্রোন হামলা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বলয়কে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ভৌগোলিক অবস্থান ও কূটনীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেছিল এই দেশগুলো। কিন্তু ইরানের এমন সরাসরি হামলা তাদের সেই স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার জন্য মিয়ামি বা সিয়াটলে বোমা পড়ার মতোই অকল্পনীয় এবং ভীতিকর অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে দোহা বা দুবাইয়ের ওপর এই হামলা। এই পরিস্থিতিতে তারা সামরিকভাবে প্রতিশোধ নেবে নাকি চুপচাপ মেনে নেবে—তা নিয়ে দেশগুলোর নীতিনির্ধারকদের মধ্যে চরম দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।

উপসাগরীয় এই রাষ্ট্রগুলোর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাদের অর্জিত ‘সফট পাওয়ার’ বা বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া নিরাপদ বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে ভাবমূর্তি রক্ষা করা। ইরানের সাথে সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে তাদের ইসরায়েলের মিত্র হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, সরাসরি পশ্চিমা জোটে না গিয়ে তারা নিজেদের সামরিক জোট ‘পেনিনসুলা শিল্ড ফোর্স’ বা জিসিসির নেতৃত্বে সাড়া দিতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত তারা কোন পথে হাঁটবে, তা নির্ভর করছে তেহরান আগামী দিনগুলোতে কূটনৈতিক আলোচনার জানালা খোলা রাখে কিনা তার ওপর।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...