মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে মারাত্মক হামলা চালিয়েছে। শনিবারের এই হামলায় ৮৬ বছর বয়সী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে রোববার ভোরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা নিশ্চিত করেছে। এই হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা এবং নাতিও মারা গেছেন। এই ঘটনায় দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একে মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বলে অভিহিত করেছেন।
খামেনির সাথে দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলি শামখানি ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদুর রহিম মুসাভিও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। সম্প্রতি গঠিত প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ৭০ বছর বয়সী শামখানি ছিলেন সর্বোচ্চ নেতার অত্যন্ত বিশ্বস্ত ব্যক্তি এবং পারমাণবিক আলোচনার প্রধান তদারককারী। ২০২৫ সালের যুদ্ধে তিনি আহত হলেও বেঁচে গিয়েছিলেন, তবে এবার তাকে রক্ষা করা যায়নি। অপরদিকে, ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির মূল রূপকার জেনারেল মুসাভি গত বছর জুনে সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশ পরিচালনাকারী খামেনির মৃত্যু ইরানের জন্য এক বিশাল ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান শোক জানিয়ে বলেছেন, এই ঘটনা ইসলামি বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এবং শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উন্মুক্ত যুদ্ধের ঘোষণা। এই হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠবে তা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন।

