খামেনি নিহত, তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে ইরানের দায়িত্ব

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটিতে এক নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং যুদ্ধের সময় রাষ্ট্র পরিচালনার স্বার্থে ইরান দ্রুত একটি তিন সদস্য বিশিষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল গঠন করেছে। রোববার (১ মার্চ) দেশটির সংবিধান অনুযায়ী এই পরিষদ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই কাউন্সিলের সদস্যরা হলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য ও প্রখ্যাত আলেম আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি। এই তিনজনই এখন থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হবেন এবং স্থায়ী নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।
ইরানের এক্সপেডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিলের মুখপাত্র মহসেন দেহনাভি জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞ পরিষদ (Assembly of Experts) নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে আরাফিকে ধর্মীয় প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করেছে। ইরানের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, খামেনির ৩৭ বছরের শাসনের অবসানের পর ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ নতুন সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করা পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।
ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি রাষ্ট্রের সকল চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কর্তৃত্ব এবং সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে স্থায়ী নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবে শিয়া আলেমদের নিয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ পরিষদ, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত হন।

