পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলা জল্পনা ও রাজনৈতিক তরজার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় স্থান পেলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। শান্তিনিকেতনের প্রতীচী ঠিকানায় তার নাম বহাল রাখার সিদ্ধান্ত আসায় বিষয়টি নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা কাটল। খোদ নির্বাচন কমিশন সূত্রে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত বছরের শুরুর দিকে রাজ্যে বিশেষ সংশোধন কর্মসূচি বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হলে অমর্ত্য সেনকে শুনানির নোটিশ পাঠায় কমিশন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অবস্থান করলেও তিনি ভারতের নাগরিক এবং নির্ধারিত সময়ে ফর্ম জমা দিয়েছিলেন। তথাপি তাকে নোটিশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা মানুষকে হেনস্তা করার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছিলেন।
বোস্টন থেকে এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন নিজেও এই প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, ভোটারদের সঙ্গে অন্যায় হলে তা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। অবশেষে বিষয়টির নিরসন ঘটে যখন কমিশনের আধিকারিকরা শান্তিনিকেতনে গিয়ে তার বাড়িতে বসেই শুনানি সারেন। সেখানে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার কপি, পাসপোর্ট, আধার কার্ড এবং তার মায়ের মৃত্যু সনদসহ সব নথিপত্র যাচাই করেন তারা।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তির মর্যাদা বা পরিচয় নয়, একমাত্র নথিপত্রের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাদের কাগজপত্র ঠিক থাকছে, তাদের নাম তালিকায় রাখা হচ্ছে। অমর্ত্য সেনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকায় যদিও তাকে ঘিরে বিতর্কের ইতি ঘটেছে, তবে সাধারণ মানুষের ওপর এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রভাব এবং কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজ্য রাজনীতির বাকী অংশে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক: রাশিদা খাতুন
লালমাটিয়া হাউজিং স্টেট, সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা–১২০৭, বাংলাদেশ।
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © ২০২৬ প্রাইম বার্তা