সৌদি ও ইসরাইলের তদবিরে ইরানে হামলা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বাহিনী ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে, যাতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হয়েছেন। এই আগ্রাসী পদক্ষেপের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব ও ইসরাইলের গোপন তদবির এবং জোরালো ভূমিকা ছিল বলে জানা গেছে। খামেনিকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে চালানো এই অভিযান বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানে হামলার জন্য সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতে দীর্ঘদিন ধরে লবিং করেছেন। প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও সৌদি যুবরাজ ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে একাধিকবার ফোন করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিতে উৎসাহিত করেন। অন্যদিকে, ইরানকে দেশের জন্য অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে দেখে আসছেন নেতানিয়াহু এবং তিনি এই হামলার জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগামী এক দশকে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে কোনো হুমকির সম্ভাবনা ছিল না। তা সত্ত্বেও রিয়াদ ও তেল আবিবের পরামর্শে এই হামলা চালানো হলো যা ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্র নীতি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুতি। ৯ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার একটি দেশের সরকারকে উৎখাত করার মতো এমন বড় সামরিক অভিযান গত কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র এড়িয়ে চলে আসছিল। সৌদি নেতা সম্প্রতি মার্কিন কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, অবিলম্বে পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ইরান আরও শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।

